ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটির তারিখ পরিবর্তন
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি সাধারণ ছুটির তারিখ পরিবর্তন করেছে সরকার।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি সাধারণ ছুটির তারিখ পরিবর্তন করেছে সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকরা মানুষের শরীরে বিরল এক মাংসখেকো পরজীবী শনাক্ত করেছেন—যা আগে কেবল প্রাণীদের দেহে দেখা যেত। রোগীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল হলেও জনস্বাস্থ্যের জন্য সতর্কবার্তা।
প্রকাশনা: আজ · স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকরা মানুষের শরীরে প্রথমবারের মতো এমন একটি পরজীবী শনাক্ত করেছেন, যা আগে শুধু প্রাণীদের দেহে দেখা যেত। রোগীর টিস্যু নমুনা পরীক্ষায় পরজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। গোপনীয়তা নীতির কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনার বিরলতা সত্ত্বেও সতর্ক থাকতে হবে। জীবাণু বা পরজীবী প্রাণী-মানুষ সংযোগে প্রজাতি বাধা অতিক্রম করলে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা দেখা দিতে পারে। ল্যাবরেটরিতে পরজীবীর মরফোলজি ও জেনেটিক বিশ্লেষণ চলছে।
দায়স্বীকার: এই প্রতিবেদনটি চলমান পরীক্ষাগার বিশ্লেষণের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সর্বদা নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এটা কি ছোঁয়াচে?
এখনো নিশ্চিত নয়। সংক্রমণের পথ ও ঝুঁকি নির্ণয়ে গবেষণা চলছে।
কীভাবে বোঝা যাবে?
অস্বাভাবিক ক্ষত/টিস্যু ক্ষয় হলে বায়োপসি ও ল্যাব টেস্টে শনাক্ত হয়।
চিকিৎসা কী?
প্রজাতিভেদে অ্যান্টিপ্যারাসিটিক ওষুধ/সার্জিকাল ডেব্রাইডমেন্ট নির্ধারিত হয়—ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি।
বারো, আলাস্কা | জুন ২০০৭ — বিজ্ঞান ও পরিবেশ ডেস্ক
আলাস্কার উত্তরের বারো অঞ্চলে ইনুপিয়াত শিকারিরা এক বিরল আবিষ্কারের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তারা শিকার করা একটি বিশাল বো-হেড তিমির শরীরে পেয়েছিলেন ১৯ শতকের এক মরচে ধরা হারপুনের টুকরো। অস্ত্রটি ছিল একটি “বম্ব ল্যান্স”—যা তিমির দেহে প্রবেশ করে ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সঙ্গে সঙ্গে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল।
ঘটনাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েও তিমিটি এক শতাব্দীরও বেশি সময় বেঁচে ছিল। বন্যপ্রাণীবিদরা অনুমান করেছিলেন, তিমিটির বয়স অন্তত ১১৫ থেকে ১৩০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ এটি টিকে ছিল দুটি বিশ্বযুদ্ধ, বিদ্যুতের বিস্তার, মহাকাশযাত্রা এবং ইন্টারনেটের যুগ পর্যন্ত।
বন্যপ্রাণীবিদ ক্রেগ জর্জ মন্তব্য করেছিলেন যে, এ ধরনের সরাসরি প্রমাণ পাওয়া অত্যন্ত বিরল এবং গুরুত্বপূর্ণ ছিল; সাধারণত তিমির বয়স নির্ধারণে চোখের লেন্স বিশ্লেষণ প্রাধান্য পেত। তিমি-গবেষক জন বকস্টোসেও বলেছিলেন, উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্রাংশ বো-হেড তিমির দীর্ঘায়ু সম্পর্কে দৃঢ় প্রমাণ দিয়েছিল।
উদ্ধার হওয়া হারপুনের টুকরোটি পরবর্তীতে আলাস্কার ইনুপিয়াত হেরিটেজ সেন্টারে সংরক্ষিত হয়েছিল। শিকার-ইতিহাসের এই নিদর্শনটি প্রকৃতির অদম্য শক্তি এবং প্রাণের টিকে থাকার সংগ্রামের জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
“হারপুনের টুকরো থেকে আমরা নিশ্চিত হয়েছিলাম—বো-হেড তিমি পৃথিবীর দীর্ঘায়ু স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম।”
সংক্ষিপ্ত বিবরণ: ২০০৭ সালে আলাস্কার বারো অঞ্চলে শিকার করা একটি বো-হেড তিমির শরীরে ১৯ শতকের “বম্ব ল্যান্স” হারপুনের টুকরো পাওয়া গিয়েছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, তিমিটির বয়স ছিল ১১৫–১৩০ বছর; অস্ত্রাংশটি পরে সংরক্ষিত হয়েছিল ইনুপিয়াত হেরিটেজ সেন্টারে।
যখন আমরা ঘুমাই:
কিন্তু ঘুমের অভাবে ঘটে ভয়াবহ বিপর্যয়—
সম্প্রতি পৃথিবীর বুকে ঘটে যাওয়া একের পর এক আগ্নেয়গিরির জেগে ওঠা, ভূমিকম্পের ঘনঘটা ও অস্থির ভৌগোলিক গতিপ্রকৃতি আমাদের সামনে বড় এক প্রশ্ন তুলে ধরছে— প্রকৃতি কি কিছু বলতে চাইছে? আর আমরা কি সে ভাষা বুঝে নিজেদের প্রস্তুত করছি?
রাশিয়ার ক্লুচেভস্কয় হঠাৎ অগ্ন্যুৎপাত শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট রেনিয়ারে ভূগর্ভে নড়াচড়া বেড়েছে। আলাস্কার আগ্নেয়গিরি স্পার এবং গ্রেট সিটকিন আবার জেগে উঠেছে। জাপানের সাকুরাজিমা, ইন্দোনেশিয়ার লেওটোবি ও মেরাপি এবং মেক্সিকোর পোপোক্যাটেপেটল — যেন সারাবিশ্বে একযোগে ভূমিক্ষরণ ও আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটছে।
এগুলো কি নিছক আলাদা আলাদা ঘটনা? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো বড় প্রাকৃতিক বার্তা? ভূবিজ্ঞানীরা আজ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। কারণ, এই ঘটনাগুলোর মাত্রা, সময়কাল ও বিস্তৃতি কাকতালীয় বলে মনে হচ্ছে না আর।
আমরা ভুলে যাই, পৃথিবী একটি জীবন্ত গ্রহ। এর ভূগর্ভে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন চলছে, আর প্রতিটি পরিবর্তন আমাদের ওপরও প্রভাব ফেলছে — কখনও সরাসরি, কখনও পরোক্ষভাবে।
এই ধারাবাহিক অস্থিরতা শুধুই ধ্বংস নয়, বরং একটি হুঁশিয়ারি — প্রকৃতি তার ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। আর আমরা, যারা এই প্রকৃতির অংশ, সেই পরিবর্তনের জন্য কতটা প্রস্তুত?
প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আমরা মহাকাশে পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছি, অথচ নিজের পায়ের নিচে জমে থাকা আগ্নেয় বিপদের পূর্বাভাস এখনও পর্যাপ্তভাবে নিতে পারছি না। শুধু উন্নয়ন নয়, আমাদের প্রয়োজন পরিবেশ-সচেতন পরিকল্পনা, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও প্রকৃতির সংকেতকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা।
প্রতিটি ভূমিকম্প, প্রতিটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত আমাদের মনে করিয়ে দেয় — আমরা প্রকৃতির নিয়ন্ত্রক নই, বরং সহযাত্রী। তাই নিজেদের রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রকৃতির ভাষা শেখা, তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং আগেভাগেই প্রস্তুত হওয়া।
যদি আমরা চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে বুঝতে পারব — পৃথিবীর প্রতিটি নড়াচড়া আসলে একটি বার্তা। সেই বার্তা হলো: "আমি বদলে যাচ্ছি, তুমি কি প্রস্তুত?"
🕘 প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৫, ০৪:০০ পিএম |
জাতিসংঘের পাঁচটি শীর্ষ সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে বিশ্বের তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীন দেশের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রাখা হয়েছে। 'গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৫'-এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ৭ কোটি ৭১ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাচ্ছেন না।
খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বলতে বোঝানো হয়েছে ব্যক্তি বা পরিবারের পর্যায়ে অর্থ বা অন্যান্য সম্পদের অভাবে পর্যাপ্ত ও সুষম খাদ্যপ্রাপ্তির সীমিত সুযোগকে।
তীব্র খাদ্য সংকটে থাকা শীর্ষ পাঁচ দেশ হলোঃ নাইজেরিয়া, সুদান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, বাংলাদেশ এবং ইথিওপিয়া। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে খাদ্য ঘাটতিতে পাকিস্তান (৬০%) এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশেও তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক (৪৪%)।
অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, "সরকার সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখলেও ব্যক্তিপর্যায়ে ‘চাপা ক্ষুধা’ বিদ্যমান। মানুষ বাধ্য হয়ে কম খাচ্ছে।"
কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এ সাত্তার মন্ডল বলেন, "খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও দুর্বল বণ্টন ব্যবস্থার কারণে তা সবার কাছে পৌঁছায় না। ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও জোরদার করা জরুরি।"
তবে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিট (FPMU) বলছে, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। তবে তারা জাতিসংঘের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
FPMU-এর মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সবার কাছে পৌঁছায় কি না, সেটাই আসল প্রশ্ন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এখন খাদ্যের প্রাপ্যতা নয়, বরং যথাযথ বণ্টন ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতাই প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে চীনা সামরিক প্রযুক্তি বর্জন করে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম কেনার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে মার্কিন বোয়িং বিমান ও যন্ত্রাংশ ক্রয়ে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এলএনজি ও খাদ্যপণ্য আমদানিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষ বাজার নিশ্চিত করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও লজিস্টিক খাতে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার শর্ত রয়েছে। এছাড়াও, মার্কিন আইন ও নজরদারি ব্যবস্থাও বাংলাদেশে প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। এতে বাংলাদেশ তার স্বাধীন নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।” অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, “শুল্ক ছাড়ের নামে মার্কিন পণ্যের বাজারে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ, যা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য সংকটজনক।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই চুক্তি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। অনেকেই এটিকে দেশের স্বার্থের সঙ্গে আপস এবং সার্বভৌমত্ব বিক্রির সমতুল্য মনে করছেন।
বিশ্লেষকরা সরকারকে এই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, “জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এই চুক্তির সকল শর্তের জনসাধারণের সামনে পুরোপুরি তথ্য উপস্থাপন করা আবশ্যক।”
এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে কিছু জীব অত্যন্ত দীর্ঘ সময় পর্যন্ত হিমায়িত অবস্থায় টিকে থাকতে সক্ষম এবং পরে পুনরায় সক্রিয় হতে পারে। নেমাটোড প্রজাতির এই কৃমিগুলো মাটির গভীরে বাস করে এবং অতীতের জলবায়ু ও পরিবেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, তাদের টিকে থাকার রহস্য তাদের দেহের বিশেষ জৈবিক গঠনে নিহিত, যা কোষের ক্ষতি রোধ করে।
এই গবেষণার গুরুত্ব শুধু প্রাণীবিদ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মহাকাশ বিজ্ঞান ও এক্সোপ্ল্যানেটারি জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও এটি নতুন প্রশ্ন ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। যদি এমন প্রাণী হাজার হাজার বছর ধরে বরফে আটকে থেকে পুনরুজ্জীবিত হতে পারে, তাহলে আমাদের সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ ও উপগ্রহেও জীবনের অস্তিত্ব থাকা কি অসম্ভব? মঙ্গল কিংবা ইউরোপার মতো স্থানগুলো এখন নতুন দৃষ্টিতে দেখা দরকার।
বিশ্বব্যাপী এই আবিষ্কার আমাদের শেখায় যে প্রকৃতি কতটা রহস্যময় এবং জীবন কতটা স্থায়ী হতে পারে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আমরা এই রহস্যগুলো আরও জানব এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করব।
আমাদের অবশ্যই এই ধরনের গবেষণাকে উৎসাহিত করতে হবে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতন হতে হবে, যেন আমরা পৃথিবীর এই বিস্ময়কর জীববৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করতে পারি।
মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অনেক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। পুরো দেশ শোকাহত। এমন সময়ে জনগণের প্রতি সহানুভূতি জানানো ও দায় স্বীকারের পরিবর্তে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, “এই ঘটনার দায় প্রত্যেক নাগরিকের।”
এ বক্তব্য শুধু অমানবিকই নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বহীনতারও প্রতিফলন। একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে জনগণ প্রত্যাশা করে সহানুভূতি, জবাবদিহিতা ও সমাধানের পথ দেখানো। কিন্তু এই বক্তব্য বরং জনগণকে দোষারোপ করার মাধ্যমে পুরো ব্যর্থতা তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
শিশুদের মৃত্যুর মতো একটি ঘটনায় যদি সরকার নিজেই দায় নিতে না চায় এবং বরং দোষ চাপাতে চায় সাধারণ নাগরিকদের ওপর, তাহলে এটি স্পষ্ট করে দেয়—রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে একটি বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। নূরজাহান বেগমের বক্তব্য সেই বিভেদেরই এক নিষ্ঠুর উদাহরণ।
রাষ্ট্রের উচিত ব্যর্থতা স্বীকার করে ব্যবস্থা নেওয়া, তদন্ত করা, এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কিন্তু এখানে উল্টো দেখা যাচ্ছে—রাষ্ট্র জনগণের দিকেই আঙুল তুলছে।
এই মন্তব্য ইতিহাসে থাকবে একটি কলঙ্ক হিসেবে—যেখানে একটি শোকাবহ ঘটনার সময় একজন সরকারি উপদেষ্টা জনগণের দিকেই দোষ চাপিয়ে দেন। এটি শুধু প্রশাসনিক ঔদ্ধত্য নয়, এটি জাতির প্রতি অবজ্ঞার প্রতীক।
রাষ্ট্র কোনো প্রভু নয়, রাষ্ট্র জনগণের সেবক। যারা জনগণের করের টাকায় বেতন পান, তাঁদের কাজ হলো দায়িত্ব নেওয়া—not blame shifting. জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলেই সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে উঠতে পারে।
এ দেশের মানুষ ভুলে যাবে না এই অবমাননাকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। এই ঘটনাটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—শুধু নীতিবোধ নয়, নেতৃত্বের মধ্যেও মানবতা থাকা জরুরি।
— সম্পাদকমণ্ডলী
Trending Flash News
বিশ্বের বৃহত্তম পাখি হিসেবে পরিচিত, তিন মিটার (প্রায় ১০ ফুট) উচ্চতার ডানাবিহীন বিশাল মোয়া পাখি একসময় ঘুরে বেড়াতো নিউজিল্যান্ডের বন-জঙ্গলে। শত শত বছর ধরে এই নিরীহ শাকাহারী প্রাণীটি বেঁচে ছিল প্রকৃতিতে, কিন্তু প্রায় ৬০০ বছর আগে, প্রথম পলিনেশীয় জনগোষ্ঠীর আগমনের পর অদৃশ্য হয়ে যায় এই প্রজাতি। আজ তার অস্তিত্ব কেবল সংরক্ষিত হাড়, শুকনো চামড়া, কিছু পালক এবং মাওরি জনগোষ্ঠীর মৌখিক ইতিহাসে সীমাবদ্ধ।
সম্প্রতি মার্কিন জেনেটিক প্রযুক্তি কোম্পানি Colossal Biosciences ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা এই বিলুপ্ত মোয়া পাখিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে ডোডো, উলি ম্যামথ এবং তাসমানিয়ান টাইগার-এর পর তাদের 'ডি-এক্সটিংশন' প্রকল্পে যুক্ত হলো মোয়াও।
Colossal Biosciences-এর লক্ষ্য আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ডিএনএ সংগ্রহ ও জিন সম্পাদনার মাধ্যমে মোয়া প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনা। fossil (জীবাশ্ম) থেকে ডিএনএ নিয়ে তা মোয়ার ঘনিষ্ঠ জীবিত আত্মীয় যেমন ইমু পাখির জিনে সম্পাদনা করে একটি নতুন জীব তৈরি করা হবে। এর পর সেই পাখিগুলোকে নির্ধারিত ‘rewilding site’-এ ছাড়া হবে।
এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে নিউজিল্যান্ডের University of Canterbury-এর Ngāi Tahu Research Centre। আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা স্যার পিটার জ্যাকসন, যিনি Colossal-এর একজন বিনিয়োগকারী ও মোয়া হাড় সংগ্রহকারী হিসেবেও পরিচিত।
"যদি সত্যিই কয়েক বছরের মধ্যে আবার মোয়া দেখতে পাই, তাহলে আমার জীবনে আর কোনো সিনেমা যতটা আনন্দ দিয়েছে, তার চেয়েও বেশি সন্তুষ্টি পাব।"
— স্যার পিটার জ্যাকসন
তবে বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের একাংশ এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করে বলছেন, এটি বাস্তবতাবিবর্জিত এবং বিজ্ঞাপনী প্রচারণা মাত্র। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ‘ডি-এক্সটিংশন’ কথাটিই বিভ্রান্তিকর, কারণ প্রকৃত মোয়া আর ফিরে আসবে না—বরং সৃষ্টি হবে একটি জিনগতভাবে সম্পাদিত নতুন প্রজাতি।
ড. টরি হেরিজ (ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ড) বলেন:
অনেক গবেষক আশঙ্কা করছেন, বিলুপ্ত প্রজাতি ফিরিয়ে আনার এই প্রচেষ্টা বর্তমানে বিপন্ন প্রজাতিগুলোর সংরক্ষণ থেকে গুরুত্ব সরিয়ে দিচ্ছে। Nature Ecology & Evolution জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই প্রকল্পগুলোতে অর্থ ব্যয় জৈববৈচিত্র্য রক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার সদস্য আরোহা টে পারেক মীড বলেন:
"এই প্রকল্পগুলো বাস্তব সংরক্ষণের চেয়ে ব্যক্তি ও করপোরেট গর্বের প্রকাশ। মোয়া ফিরলেও সে কোথায় থাকবে? কীভাবে বাঁচবে? সম্মানজনক জীবন পাবে কি?"
Colossal Biosciences-এর এই সাহসী ঘোষণাগুলো প্রযুক্তির সীমা ছাড়িয়ে সম্ভাবনার দিগন্তে পৌঁছানোর চেষ্টা। বাস্তববাদী বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি একটি বিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট কল্পনা, যা হয়তো নতুন জিনবিজ্ঞান চর্চার দরজা খুলবে, তবে প্রকৃত মোয়া পাখি আর কখনোই ফিরে আসবে না।
#মোয়া #ডি-এক্সটিংশন #Colossal #বিজ্ঞান #বিলুপ্তপ্রাণী
উৎস: উইকিপিডিয়া
মোয়া ছিল নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী এক প্রকার বিশাল, উড়তে অক্ষম পাখি, যারা ডাইনরনিথিডি (Dinornithidae) পরিবারভুক্ত। আজ থেকে কয়েক শতাব্দী আগে পর্যন্ত এরা জীবিত ছিল, কিন্তু মানুষের আগমনের কিছুদিন পরেই এরা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
মোয়া শুধুমাত্র নিউজিল্যান্ড-এ পাওয়া যেত এবং এদের অন্য কোথাও দেখা যায়নি। মোয়া পাখির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল – এরা একেবারেই উড়তে পারত না এবং পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ পাখি হিসেবে পরিচিত ছিল।
মোয়া ছিল নিরামিষভোজী। এরা গাছের পাতা, ডালপালা, নরম গুল্ম এবং ফল খেয়ে জীবনধারণ করত। বড় আকৃতির গ্রীবা ও মুখের গঠন অনুযায়ী বোঝা যায়, তারা গাছের উচ্চ অংশ থেকেও খাবার সংগ্রহ করত।
খ্রিস্টীয় ১৩০০–১৪০০ সালের দিকে পলিনেশিয়ান (মাওরি) জনগোষ্ঠী নিউজিল্যান্ডে বসতি স্থাপন করে। অতিরিক্ত শিকার এবং বন উজাড়ের কারণে মোয়া পাখি দ্রুত হারে কমে যেতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
শ্রেণী | তথ্য |
---|---|
রাজ্য (Kingdom) | Animalia |
শ্রেণি (Class) | Aves |
অধিশ্রেণি | Palaeognathae |
পরিবার (Family) | Dinornithidae |
যাত্রীবাহী একটি বিশাল বিমান উড়ছিল আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে—৩০ হাজার ফুট উচ্চতায়, ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে। হঠাৎ, এক তীব্র গতির ওয়ারক্রাফট জেট এসে দাঁড়াল বিমানের পাশে।
জেটের পাইলট গতি কমিয়ে বিমানের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শুরু করল। এরপর রেডিওতে বিমানের পাইলটকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলল,
“বিমানে বসে নিশ্চয়ই বিরক্ত হচ্ছেন? দেখুন, আমি কী করতে পারি!”
বলেই সে তার দুরন্ত গতির প্রদর্শনী শুরু করল—জেটটি বিদ্যুতের মতো কখনও সামনে ছুটে গেল, কখনও পেছনে, কখনও বিমানের চারপাশে পাক খেল, আবার গভীর সমুদ্রের কাছাকাছি নিচু স্তরে নেমে এসে মুহূর্তেই ফিরে এল বিমানের পাশে।
তারপর সে জিজ্ঞেস করল,
“কেমন লাগল?”
বিমানের পাইলট হেসে উত্তর দিলেন,
“চমৎকার! এবার দেখুন, আমি কী করি।”
জেট-পাইলট অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু কিছুই ঘটল না। বিমানের গতি অপরিবর্তিত রইল—একইভাবে সোজা চলতে থাকল।
সময় গড়াল। প্রায় ১৫ মিনিট পর, বিমানের পাইলট রেডিওতে বললেন,
“তা, কেমন লাগল?”
জেট-পাইলট বিভ্রান্ত হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“আপনি করলেনটা কী?”
বিমানের পাইলট হেসে উত্তর দিলেন,
“আমি আসন থেকে উঠে দাঁড়ালাম, পা ঝাঁকিয়ে নিলাম, বিমানের পেছনে গিয়ে ওয়াশরুম ব্যবহার করলাম, এক কাপ কফি বানালাম এবং চকোলেট পেস্ট্রি খেলাম।”
“যেখানে গতি থেমে যায়, সেখানে শুরু হয় উপলব্ধির গভীরতা।”
লিখেছেন: বিজ্ঞান প্রতিবেদক | প্রকাশকাল: ২৭ জুলাই ২০২৫
সমুদ্র জুড়ে ঘুরে বেড়ানো এই বিশাল স্তন্যপায়ী প্রাণী তিমি ভূমিকা রাখে শুধু সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষাতেই নয়, বরং পরোক্ষভাবে স্থলভাগের পরিবেশেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রথমবারের মতো পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে যে, তিমির মূত্রও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক অপ্রত্যাশিত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।
সম্প্রতি Nature Communications জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে জানানো হয়, বিশেষ কিছু প্রজাতির তিমি প্রতিদিন প্রায় ৯৫০–১০০০ লিটার মূত্র ত্যাগ করে। এই মূত্র সমুদ্রজলে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সরবরাহ করে, যা ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের বৃদ্ধিতে সহায়ক। সালোকসংশ্লেষণের হার বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন বছরে বায়ুমণ্ডল থেকে গড়ে ১৮,১৮০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে — যা বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
প্রাপ্তবয়স্ক ব্লু হোয়েল বা স্পার্ম হোয়েল প্রতিদিন শত শত লিটার মূত্র ত্যাগ করে, যা সমুদ্রের পানিতে মিশে গিয়ে এক ধরনের প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজ করে। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে “whale pump” নাম দিয়েছেন—যার মাধ্যমে তিমিরা গভীর সমুদ্র থেকে পুষ্টি উপরে নিয়ে আসে ও তা ছড়িয়ে দেয় অপেক্ষাকৃত দরিদ্র এলাকায়।
তাদের চলাচলের কারণে পুষ্টি উপাদান যেমন নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সমুদ্রের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে স্থানান্তরিত হয়। পুষ্টি-স্বল্প অঞ্চলে তিমিরা তাদের মূত্রের মাধ্যমে একটি নতুন খাদ্যজাল সৃষ্টি করে, যা প্ল্যাঙ্কটন থেকে শুরু করে মাছ, পাখি ও সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী পর্যন্ত বিস্তৃত।
সালোকসংশ্লেষণকারী ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন সমুদ্রজলে CO₂ শোষণ করে এবং অক্সিজেন উৎপাদন করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তিমির উপস্থিতি ও মূত্রের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া প্রায় ৪০% পর্যন্ত কার্যকর হয়। অর্থাৎ তিমি না থাকলে সমুদ্রের কার্বন শোষণ ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে যেতে পারে, যা জলবায়ু পরিবর্তন আরও ত্বরান্বিত করবে।
বর্তমানে মানবসৃষ্ট দূষণ, অতিরিক্ত মাছ ধরার চাপ, জাহাজ চলাচল এবং শব্দদূষণের কারণে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। আশঙ্কাজনক হারে কমছে তিমির সংখ্যা, যা সমুদ্রের পুষ্টিচক্র ও বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
নতুন গবেষণাগুলোর মাধ্যমে এখন এটা স্পষ্ট যে তিমি কেবল প্রাণীর রাজ্যের এক বিস্ময়কর সদস্যই নয়, বরং তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক অতন্দ্র প্রহরী। তাই শুধু সংরক্ষণ নয়, আমাদের এখন তিমির বাসস্থান রক্ষা, খাদ্য সরবরাহ ও চলাচলের পথ সুরক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে।
তিমির মূত্র হয়তো প্রথম শুনতে তুচ্ছ মনে হতে পারে, কিন্তু এটি আসলে এক জটিল ও মহৎ পরিবেশগত প্রক্রিয়ার অংশ। এটি আমাদের শেখায়, প্রকৃতিতে এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলোর গোপন অবদান ছাড়া পুরো বাস্তুতন্ত্রই ভেঙে পড়তে পারে। তাই তিমিকে বাঁচানো মানে, সমুদ্রকে বাঁচানো; আর সমুদ্রকে বাঁচানো মানে, পৃথিবীকে রক্ষা করা।
সেফটি পিন, ববি পিন এবং বলপয়েন্ট কলম—তাদের মৌলিক রূপে “শতাব্দীর পর শতাব্দী” টিকে আছে, যা তাদের অসাধারণ কার্যকারিতা এবং সরলতার প্রমাণ। কিছু নকশা সময়ের সাথে সাথে বদলে যায়, কিন্তু কিছু ডিজাইন এমন থাকে যা যুগ যুগ ধরে নিজেদের মৌলিকত্ব ধরে রাখে।
চলুন জেনে নিই এই অমর নকশাগুলোর উৎস!
আপনি কি জানেন, প্রতিদিনের ব্যবহৃত “সেফটি পিন” প্রায় ১৭৫ বছর ধরে তার মূল নকশা ধরে রেখেছে?
আমেরিকান উদ্ভাবক ওয়াল্টার হান্ট ১৮৪৯ সালের ১০ এপ্রিল এটি পেটেন্ট করেন (ইউ.এস. পেটেন্ট নং ৬,২৮১)। তার তৈরি এক-টুকরো, কুণ্ডলিত স্প্রিং এবং আটকানো ডগা সম্বলিত নকশাটি আজও বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে।
১৯২০-এর দশকে যখন ‘বব’ চুলের স্টাইল জনপ্রিয় হয়, তখনই এর জন্ম। সান ফ্রান্সিসকোর কসমেটিক উদ্যোক্তা লুইস মার্কাস আধুনিক স্প্রিং-ক্লিপ “ববি পিন” ডিজাইন করেন এই বিশেষ স্টাইলকে ধরে রাখার জন্য।
এরপর থেকে এটি চুলের এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে। আশ্চর্য হলেও সত্যি, এর মৌলিক রূপটি আজও প্রায় অপরিবর্তিত।
বলপয়েন্ট কলমের ধারণা প্রথম আসে ১৮৮৮ সালে “জন জে. লাউড”-এর পেটেন্টে।
তবে এর আধুনিক এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল রূপটি আসে ১৯৪৩ সালে, যখন লাসলো বিরো এটি উন্নত করেন। পরে ১৯৫০ সালে Société Bic এর বিখ্যাত ‘Bic Cristal’ কলম বাজারে আনে।
এই নকশাগুলো প্রমাণ করে যে, প্রকৃত উদ্ভাবন আর সরলতা সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। তাদের স্থায়িত্ব আমাদের দৈনন্দিন জীবনে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছে।
Phascolarctos cinereus, বা কোয়ালা, অস্ট্রেলিয়ার একটি স্থলচর থলিধারী প্রাণী। দেখতে ভালুকের মতো হলেও এটি একটি মারসুপিয়াল — অর্থাৎ, একটি থলিধারী স্তন্যপায়ী প্রাণী।
কোয়ালা শুধুমাত্র ইউক্যালিপটাস পাতাই খায়। পাতাগুলি থেকে খুব কম শক্তি পাওয়া যায়, তাই এটি দিনে প্রায় ১৮–২২ ঘণ্টা ঘুমায়। তারা সাধারণত গাছে বাস করে এবং একাকী থাকে।
মারসুপিয়াল প্রাণী হিসেবে, কোয়ালার মায়েরা তাদের শিশুদের থলির ভিতরে রাখে। শিশু কোয়ালাকে বলা হয় joey, যা প্রায় ৬ মাস থলির ভিতরে থাকে এবং পরে মায়ের পিঠে চড়ে চলে।
বন উজাড়, যানবাহনের ধাক্কা, কুকুরের আক্রমণ এবং chlamydia রোগ কোয়ালার জন্য বড় হুমকি। IUCN অনুযায়ী, কোয়ালাকে Vulnerable বা "হুমকির মুখে থাকা" প্রাণী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার কোয়ালা কেবলমাত্র একটি প্রাণী নয়, বরং প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর সংরক্ষণে সচেতনতা ও বন রক্ষা জরুরি। আমাদের উচিত এই প্রজাতির সুরক্ষায় সক্রিয় হওয়া।